সাতকরার আচার

উপকরণঃ সাতকরা ৬টি, তেঁতুল পিউরি ১ কাপ, সিরকা ২ কাপ, চিনি দেড় কাপ, লবণ ২ টেবিল চামচ, সরিষা বাটা ১ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো ২ চা চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ চা চামচ, ভাজা পাঁচফোড়ন গুঁড়ো ১ টে· চামচ, ভাজা শুকনা মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ, ভাজা ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, আস্তা পাঁচফোড়ন আধা চা চামচ, সরিষার তেল ৩ কাপ।

প্রস্তুত প্রণালীঃ সাতকরা হালকা করে চেঁছে ওপরের সবুজ আবরণ ফেলে ধুয়ে-মুছে নিতে হবে। ভেতরের অংশ বাদ দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। কাটা সাতকরা ১ কাপ সিরকা, অল্প লবণ, হলুদ দিয়ে প্রেসার কুকারে দুই শিসে (সিটি) সেদ্ধ করতে হবে। কড়াইতে তেল গরম হলে আস্ত পাঁচফোড়ন দিতে হবে। রসুন বাটা, আদা বাটা, হলুদ, লবণ, মরিচ গুঁড়ো, সামান্য সিরকা দিয়ে কষাতে হবে। কষানো হলে সাতকরা দিয়ে ৫ মিনিট নাড়তে হবে। এখন বাকি সিরকা, চিনি, সরিষা বাটা, তেঁতুল পিউরি দিয়ে ১৫ মিনিট নাড়তে হবে। সাতকরা ও তেঁতুল মাখা মাখা হলে ভাজা মসলা গুঁড়ো দিয়ে আরও ২ মিনিট নেড়ে আচার চুলা থেকে নামাতে হবে। পরপর ঠান্ডা করে কাচের বয়ামে সংরক্ষণ করুন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো।

আমের ঝাল আচার

উপকরণঃ

আম ১ কেজি, সিরকা ১ কাপ, সরিষার তেল দেড় কাপ, সরিষা বাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, মরিচ বাটা ১ টে· চামচ, আদা কুচি ১ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন গুঁড়ো ১ টে· চামচ, আস্ত পাঁচফোড়ন আধা চা চামচ, লবণ ১ টেবিল চামচ, চিনি ১ টে চামচ, রসুন কোয়া ১৬টি, কাঁচামরিচ ১০টি, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালীঃ

আম খোসাসহ ছোট ছোট টুকরা করে কেটে ১ টেবিল চামচ লবণ মাখিয়ে ভালো করে ধুয়ে পানি নিংড়ে নিতে হবে। অল্প হলুদ, লবণ মাখিয়ে এক দিন রোদে দিতে হবে। কড়াইতে তেল গরম হলে আস্ত পাঁচফোড়ন ছাড়তে হবে। পাঁচফোড়ন ভাজা সুগন্ধ বের হলে রসুন বাটা, আদা কুচি দিয়ে ১ মিনিট নাড়তে হবে। মরিচ, হলুদ, লবণ ও সামান্য সিরকা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে আম দিয়ে নাড়তে হবে। আম আধা সেদ্ধ হলে বাকি সিরকা, চিনি, সরিষা বাটা, কাঁচা মরিচ, রসুন কোয়া দিয়ে আরও ১৫ মিনিট অল্প আঁচে নাড়তে হবে। ভাজা পাঁচফোড়ন গুঁড়ো দিয়ে ২ মিনিট নেড়ে আচার চুলা থেকে নামাতে হবে। আচার ঠান্ডা হলে কাচের বয়ামে রেখে দিন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো।

আম-দইয়ের কাস্টার্ড

উপকরণঃ টক দই আধাকাপ, পাকা আম ১ কাপ (কিউব), ডিম ১টি, দুধ ১ লিটার, চিনি পৌনে এক কাপ, কাস্টার্ড পাউডার ২ টেবিল চামচ।

প্রণালীঃ দই একটি পাতলা কাপড়ে ঝরিয়ে নিতে হবে। পানি ঝরে গেলে ক্রিমের মতো হবে। এবার দুধের সঙ্গে ডিম, চিনি, কাস্টার্ড পাউডার মিলিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করতে হবে। তারপর চুলায় জ্বাল দিয়ে ঘন হলে নামিয়ে একটু ঠান্ডা করে তার মধ্যে ঘন ক্রিমের মতো দই মেশাতে হবে খুব ভালো করে। আম মিশিয়ে ফ্রিজে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন। ওপরে নানা রকম ডেকোরেশন করা যায়।

সূত্রঃ নাজমা হুদা, দৈনিক প্রথম আলো।

আমসত্ত্বের খাট্টা

উপকরণঃ আমসত্ত্ব ২৫০ গ্রাম, নারকেলের দুধ ২ কাপ, সরিষার তেল ১ টেবিল চামচ, আদা কুচি আধা চা চামচ, রসুন আধা চা চামচ, সরষে আধা চা চামচ, শুকনা মরিচ ২-৩টি, লবণ স্বাদ অনুসারে, চিনি স্বাদ অনুসারে, তেজপাতা ২টি।

প্রণালীঃ আমসত্ত্ব ছোট টুকরা করে কেটে নারকেলের দুধ দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। এবার চামচ দিয়ে নেড়ে গলাতে হবে। কড়াইতে তেল দিয়ে সরায় শুকনা মরিচ ফোড়ন, আদা, রসুন কুচি, তেজপাতা দিয়ে একটু লাল হয়ে এলে আমসত্ত্ব ঢেলে প্রয়োজনমতো চিনি দিতে হবে। ঘন হয়ে এলে নামাতে হবে।

সূত্রঃ নাজমা হুদা, দৈনিক প্রথম আলো।

মিষ্টি দইয়ের পানীয়

উপকরণঃ
মিষ্টি দই ৩ কাপ, পানি ২ কাপ, এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ, গোলাপ জল ২ চা চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ।

প্রণালীঃ
ওপরের সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
ব্লেন্ড করার সময় বরফকুচি ২ কাপ দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে। লম্বা গ্লাসে ঢেলে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ২৭, ২০০৮

দইবড়া ২

উপকরণঃ

টক দই ১ কেজি, পানি আড়াই কাপ, চিনি ১ টেবিল চামচ, লবণ ১ চা চামচ, শুকনো ভাজা মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা ভাজার গুঁড়া ১ চা চামচ, তেঁতুলের চাটনি ২ টেবিল চামচ। (যদি আড়ং দই হয় তাহলে পানি লাগবে দেড় কাপ)।

ওপরের সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

বড়ার গোলার জন্য যা যা লাগবেঃ মাষকলাইয়ের ডাল ১ কাপ, চিনি ১ চা চামচ, লবণ ১ চা চামচ, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ, ভাজা মরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ, ভাজার জন্য তেল।

প্রণালীঃ

ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর মিহি করে পাটায় বেটে নিতে হবে। বাটা ডালের সঙ্গে আধা কাপ পানি মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। বোলে ঢেলে খুব করে হাত দিয়ে ফেটে (ব্লেন্ড করার সময় সব গুঁড়া মসলা দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে) তেল গরম হলে ফেটানো ডালের গোলা দিয়ে ছোট ছোট বড়া বানিয়ে সোনালি-বাদামি করে ভেজে তুলতে হবে। ভাজা বড়া ব্লেন্ড করা দইয়ের মিশ্রণে ভেজাতে হবে। এরপর ওপরে তেঁতুলের চাটনি দিয়ে জিরা ও মরিচের গুঁড়া ছড়িয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন।

তেঁতুলের চাটনিঃ তেঁতুলের গোলা ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, লবণ আধা চা চামচ। ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ, ভাজা মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ-সব একসঙ্গে জ্বাল করে ঘন করে নিতে হবে।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ২৭, ২০০৮

ফ্রুটস ককটেল

উপকরণঃ তাজা ফল, ছোট ছোট টুকরা আপেল, কলা, আঙ্গুর, আম, পেঁপে, তরমুজ ও পেপে স্কুপার দিয়ে বল বানিয়ে নিতে হবে।
ফলের টুকরো চিল্ড সুগার সিরাপে (লেবুর রস দিয়ে ঠান্ডা করা) রেখে ঠান্ডা করে নিতে হবে। কনডেন্সড মিল্ক আধা টিন। লাল জেলো, হুইপডক্রিম, বরফকুচি প্রয়োজনমতো।

প্রণালীঃ লম্বা গ্লাসে প্রথমে ফ্রুটস ২ টেবিল চামচ, ১ টেবিল চামচ কনডেন্স মিল্ক, বরফকুচি, জেলো, ফ্রুটস, হুইপডক্রিম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন ঠান্ডা ঠান্ডা।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ২৭, ২০০৮

ঘরেপাতা দই

উপকরণঃ দুধ ১ কেজি, চিনি ১ মুঠো, সামান্য রং (দই জমানোর জন্য পুরোনো দই ২ টেবিল চামচ), দই জমানোর জন্য পাত্র।

প্রণালীঃ ১ কেজি দুধ জ্বাল দিয়ে তিন পোয়া করে নিতে হবে। জ্বাল দেওয়ার সময় রং মেলাতে হবে। সামান্য গরম থাকতে পুরোনো দই দিয়ে খুব করে ফেটে দই পাত্রে ঢেলে গরম জায়গায় রেখে দিতে হবে। দই জমে গেলে ফ্রিজে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ২৭, ২০০৮

ফালুদা

উপকরণঃ

ঘন দুধ ৩ গ্লাস, চিনি ৩ টেবিল চামচ একসঙ্গে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে।
নুডলস সিদ্ধ প্রয়োজনমতো। ভ্যানিলা আইসক্রিম প্রয়োজনমতো। স্ট্রবেরি বা পেস্তা আইসক্রিম প্রয়োজনমতো। মাওয়া প্রয়োজনমতো (গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ, গুঁড়া চিনি ১ টেবিল চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, গোলাপজল আধা চা চামচ-সব একসঙ্গে মিশিয়ে মাওয়া বানাতে হবে। জেলো জমানো ২ রকম (প্যাকেটের নির্দেশমতো) আঙ্গুর কুচি, কলা টুকরো স্বাদমতো। বরফকুচি স্বাদমতো।

প্রণালীঃ

 লম্বা গ্লাসে প্রথমে নুডলস, স্ট্রবেরি বা পেস্তা আইসক্রিম, লাল জেলো, নুডলস, ভ্যানিলা আইসক্রিম, ম্যাঙ্গো জেলো, কলা, আঙ্গুর ওপর থেকে ঘনদুধ দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ২৭, ২০০৮