রান্নাঘরের টুকিটাকি

মাছ ভাজা হলে কিংবা রসুন বেশি ব্যবহার করলে পুরো বাড়িতেই দুর্গন্ধ ছড়ায় তাই রান্না শুরুর আগে একটা বাটিতে ভিনেগার ঢেলে চুলার কাছেই রাখুন। এটি গন্ধ শুকানোর পক্ষে আদর্শ।

ভাত, ডাল, দুধ উথলে পড়ে প্রায়ই চুলা নোংরা হয়। এক্ষেত্রে চুলা পরিষ্কারের জন্য প্রথমেই চুলার ওপর লবণ ছড়িয়ে দিন। চুলা ঠাণ্ডা হলে গরম সাবান পানিতে কাপড় ভিজিয়ে জায়গাটি মুছে নিন।

রান্নাঘর আর খাবার ঘরে মাছির উপদ্রব এড়াতে নিপপাতার গোছা কয়েকটি স্থানে রেখে দিন।

ফ্রিজে প্রায়ই দুর্গন্ধ হয়। এ অবস্থায় ফ্রিজে খাবার রেখে দেওয়াটা অস্বাস্থ্যকর। ফ্রিজের খাবার ঢেকে রাখুন।

ফ্রিজে অনেক সময় অগোচরে সবজি পচে দুর্গন্ধ হয়। আর তাই এদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতি সপ্তাহে একবার ফ্রিজ পরিষ্কার করা উচিত।

ফ্রিজ পরিষ্কার করার পর অনেকক্ষণ ফ্রিজের দরজা খোলা রাখুন। তারপর ফ্রিজে বেকিং সোডা রেখে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করুন। প্রয়োজনে দুই চার দিন পরপর বেকিং সোডা পাল্টে দিন।

ফ্রিজে খুব বেশি দুর্গন্ধ হলে সাবান পানিতে ফ্রিজ পরিষ্কার করে সাদা ভিনেগার একবার কাপড়ে ভিজিয়ে ফ্রিজ আবার মুছে নিন। এরপর বেশ খানিকক্ষণ খোলা রাখুন ফ্রিজ। তারপর ফ্রিজে বেকিং সোডা রেখে ফ্রিজ বন্ধ করুন।

রান্নাঘরের সিংক কিংবা বেসিনের মুনোনা জিনিস আটকে প্রায়ই পানি জমে যায়, দুর্গন্ধ হয়। সে ক্ষেত্রে বাড়িতে ব্যবহার করা যায় এমন ব্লিচ দুই কাপ ঢেলে দিন সিংক কিংবা বেসিনের মুখে। এরপর একঘণ্টা ওভাবে রেপোনি ঢেলে দিন। দেখবেন সিংক কেমন পরিষ্কার হয়ে গেছে।

আজকাল অনেকেই গাছ দিয়ে ঘর সাজায়। আপনি আপনার রান্নাঘরের অব্যবহৃত কোন একটি কোণে রাখতে পারেন। কোন সাকুলেন্ট কিংবা বনসাই গাছ। আপনার রান্নাঘর হয়ে উঠবে অনেক স্বতন্ত্র ও নান্দনিক।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর ১১ ডিসেম্বর ২০০৭

ওভেনে রান্নার আগে

সময়ের যান্ত্রিকতায় মাইক্রোওয়েভ অবিচ্ছেদ্য সব পরিবারে । জীবনটা আজ যেন যান্ত্রিকতার। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতোই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা মিটিয়ে সবার নাগালের মধ্যেই এসেছে মাইক্রোওয়েভ ওভেন। বায়োসিরামিক প্রযুক্তিতে তৈরি মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করা খাদ্যের গুণ অর্থাৎ ভিটামিন, নিউট্রেশন সব ঠিক থাকে। শুধু তাড়াতাড়ি রান্না বা অল্প তেল-মশলায় রান্নাই নয়, মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করা যায় হাইজিনিক ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার। আধুনিক রন্ধনবিদরা প্রমাণ করেছেন, কেবল খাবার গরমই নয়, নানা স্বাদের খাবারও তৈরি করা যায় মাইক্রোওয়েভ ওভেনে। দৈনন্দিন সাধারণ খাবারের পাশাপাশি কেক, বিস্কিট, ফিরনি, পোলাও, কাবাব, নান সবকিছুই খুব সহজে তৈরি করা যায় মাইক্রোওয়েভ ওভেনে। রেগুলেটর এবং ইজিটাচ কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে সহজেই যেমন অপারেট করা যায় তেমনি মেন্যুয়াল দেখে নিজে নিজেও চেষ্টা করা যায় এবং প্রস্তুত করা যায় মজার মজার খাবার।

মাইক্রোওয়েভে রান্নার জন্য কিছু সহজ পদ্ধতিতেও আছে, যা আমাদের বৈদ্যুতিক খরচ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। মাইক্রোওয়েভ ওভেনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস-

মাইক্রোওয়েভ ওভেন আজ আর শুধু শৌখিনতা নয়, আমাদের জীবনের এক অপরিহার্য অংশে রূপ নিয়েছে। পিৎজা ও মচমচে জলখাবার রান্নার জন্য কিংবা ঢিমা আঁচে রান্নার জন্য এবং সহজে ডিফ্রস্ট করার জন্যও মাইক্রোওয়েভ অতুলনীয়।

কচুশাকের পুষ্টিগুণ

কচু একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর সবজি। এদেশে কচু তেমন সমাদৃত নয় এবং অনেকটা অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়। অথচ কচুশাক। ভিটামিন ‘এ’ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। তাই দেহের পুষ্টি চাহিদ পূরণে কচুশাকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ শাক দু’প্রকার। যথাঃ (১) সবুজ কচুশাক ও (২) কালো কচুশাক। খাদ্য উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম সবুজ ও কালো কচুশাকে যথাক্রমে ১০২৭৮ ও ১২০০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন রয়েছে। এ ক্যারোটিন থেকেই আমরা ভিটামিন ‘এ’ পেয়ে থাকি। এছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম সবুজ কচুশাকে থাকে-

সবুজ কচুশাকের চেয়ে কালো কচুশাক অনেক বেশি পুষ্টিকর। প্রতি ১০০ গাম কালো কচুশাকে থাকে-

উৎসঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত, ০২ ডিসেম্বর ২০০৭,
লেখকঃ মোঃ আব্দুর রহমান

শীতের পিঠার খাদ্যমান

শীতের পিঠা খেতে কে না ভালোবাসে? হিমহিম ঠান্ডায় সকাল কিংবা সন্ধ্যায় গরম গরম পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। সকাল-সন্ধ্যায় এখন প্রায়ই দেখা যায় পিঠা ব্যবসায়ীদের। ছোট্ট ছাউনি দিয়ে এক পাশে কয়লার চুলায় সারাক্ষণ বানিয়ে চলছে শীতের পিঠা। ভাপা পিঠা ও কুলি পিঠা। তবে ভাপা পিঠাই বোধহয় বেশি জনপ্রিয়।

পিঠা তৈরিতে সাধারণত দুই ধরনের চালের গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়। একটি হলো ছাঁটা চালের গুঁড়ো, অপরটি ঢেঁকিতে ছাঁটা চালের গুঁড়ো। এ ছাড়া ব্যবহৃত হয় নাড়কেল ও গুড়।

প্রতি ১০০ গ্রাম আতপ চালে (কলে ছাঁটা) রয়েছে ৩৪৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ৬·৪ গ্রাম প্রোটিন, ৯ মি· গ্রাম ক্যালসিয়াম, ৪·০ মি· গ্রাম আয়রন। ভিটামিন বি১ রয়েছে ০·২১ মি· গ্রাম ও বি২ রয়েছে ০·০৫ মি· গ্রাম।

আর আতপ চালে (ঢেঁকিতে ছাঁটা) রয়েছে ৩৪৯ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, প্রোটিন ৮·৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মি· গ্রাম, ফেরাস ২·৮ মি· গ্রাম। ভিটামিন বি১ রয়েছে ০·২৭ মি· গ্রাম ও বি২ রয়েছে ০·১২ মি· গ্রাম।
প্রতি ১০০ গ্রাম নারিকেলে রয়েছে খাদ্যশক্তি ৩৭৬ কিলোক্যালরি, প্রোটিন ১৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৯ মি· গ্রাম, আয়রন ৬৯·৪ মি· গ্রাম। ভিটামিন বি১ রয়েছে ০·০৫ মি· গ্রাম, বি২ রয়েছে ০·০২ মি· গ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ ৬ মি· গ্রাম।

প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরের গুড়ে রয়েছে ৪১৭ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ১২০ মি· গ্রাম ক্যালসিয়াম ও ২·৫ গ্রাম প্রোটিন।

অনেক রকমের খাদ্য-উপাদানের সমন্বয় থাকে বলে পিঠা সব সময়ই উচ্চ খাদ্যশক্তি সরবরাহ করে। কাজেই অনায়াসে এটি হতে পারে সকালের নাশতা কিংবা বাচ্চার টিফিনের খাবার।

দৈনিক প্রথম আলো, ২৬ ডিসেম্বর ২০০৭
সংকলনঃ সাদিয়া আহমেদ

ক্যালসিয়াম দেহের জরুরি উপাদান

দেহের জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। অন্যান্য খনিজ পদার্থ থেকে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশী। দেহে শতকরা ৯০-৯৯ ভাগ ক্যালসিয়াম থাকে হাড় ও দাঁতে। ক্যালসিয়াম ফসফরাসের সাথে মিলে এসব কঠিন তন্তুর কাঠিন্য প্রদান করে। ক্যালসিয়ামের বাকি অংশ শরীরের সব কোষের ক্রিয়াকলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকাল অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ বা গর্ভবতী মহিলা ক্যালসিয়াম বা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। যে কোন মাছের কাঁটা বা নরম হাড় চিবিয়ে রস খাওয়ার মাধ্যমে অতি সহজে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। ক্যালসিয়ামের দৈনিক চাহিদা গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১৫০০-২০০০ মিলিগ্রাম, শিশুদের দৈনিক ১০০০-১৪০০ মিলিগ্রাম এবং প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ৮০০-১০০০ মিলিগ্রাম।

প্রতিদিন আমাদের প্রচুর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস হলো দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য। যেমন-দই, ছানা, পনির, মাখন, ক্ষির ইত্যাদি। এক গস্নাস দুধের মধ্যে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় ২৯০ মিলিগ্রাম। চর্বিযুক্ত এবং সর উঠানো দুধে ক্যালসিয়াম সামান্য পরিমাণ বেশি থাকে। দুধে অনেক ভিটামিন এবং উৎকৃষ্ট মানের প্রোটিন থাকে, যা ক্যালসিয়ামকে অঙ্গীভূত করতে সাহায্য করে। কোনো যুবক-যুবতী প্রতিদিন তিন গস্নাস দুধ এবং তার সাথে পনির ও দই দিয়ে নাশতা করলে তার প্রোটিনসহ ক্যালসিয়ামের দৈনিক চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব। দুধ ছাড়া ক্যালসিয়ামের অন্যান্য উৎসের মধ্যে কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিমের কুসুম, শিমের বিচি, সবুজ শাক-সবজি, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, কচুশাক, ঢেঁড়শ ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে।

আমাদের দেহে ক্যালসিয়াম তৈরি হয় না। অবশ্যই খাবারের মাধ্যমে এর চাহিদা পূরণ করতে হয়। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাঁত ও হাড়ের সুষ্ঠু গঠন হয় না। যার ফলে শরীরে শক্তি হয় না। ক্যালসিয়াম স্বল্পতায় শিশুদের হাড় ও পায়ের মাংসপেশীতে ব্যথা হয়ে থাকে। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে শিশুদের দৈহিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাঁটা বিলম্ব হয়। ক্যালসিয়ামের সাথে ভিটামিন-ডি-এর অভাব হলে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়, যার ফলে শিশু এক সময় পঙ্গুত্বের অভিশাপ বরণ করে। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে বা রজঃনিবৃত্তির পর মহিলাদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় ক্যালসিয়ামের অভাব হলে অস্টিওপোরোসিস বা ‘হাড় ভঙ্গুর’ রোগের প্রবণতা বাড়ে অর্থাৎ অল্প আঘাতে হাড় ভেঙ্গে যায়। এজন্য বয়স্ক মহিলাদের ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। গর্ভকালীন সময়ে এবং প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাওয়া প্রয়োজন। কারণ স্বাভাবিক খাবার দ্বারা অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ নাও হতে পারে। ক্যালসিয়ামের অভাবে গা, হাত-পায়ের জ্বালা-যন্ত্রণা করতে পারে। দেহের বিভিন্ন শিরা-উপশিরা পুরু হয়। এ সময় ক্যালসিয়ামের অভাবে মা ও শিশু দুজনেরই শারীকি সমস্যা হয়। দাঁত ও হাড়ের সুগঠন ছাড়াও ক্যালসিয়ামের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে, তাহলো হ্নৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন রক্ষা করা, রক্ত জমাট বাঁধায় সাহায্য করা ও হরমোন প্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্ক, চোখ ও কানের প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়ামের ভূমিকা রয়েছে। মাংসপেশির সঙ্কোচনে ক্যালসিয়ামের গুরুত্ব অনেক। কোষ বিভাজন ও রক্ত তৈরিতে ক্যালসিয়াম যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। আমাদের প্রতিদিনের খাবারে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বাদ না পড়ে এবং খাবারের মাধ্যমেই যেন ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়।

উৎসঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ৩০শে ডিসেম্বর ২০০৭
লেখকঃ ডাঃ মেহবুব আহসান রনি
অনকোলজি বিভাগ, বি.এস.এম.এম.ইউ।

পেঁপের পুষ্টি

পেঁপে একটি খাদ্যমানসমৃদ্ধ ফল। এটি একটি সবজিও। পেঁপেকে রোগ প্রতিরোধক খাদ্যও বলা চলে। সহজপাচ্য, সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও সারা বছর সব জায়গায় পাওয়া যায় বলে সবজি ও ফল হিসেবে পেঁপের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।

প্রায় সব ধরনের পুষ্টি-উপাদানই পেঁপেতে আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন থাকে। এ ক্যারোটিনের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ১৩৫০ মাইক্রোগ্রাম রেটিনল সমতুল্য বা ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়ে আমাদের শরীরে কাজে লাগে।

পাকা পেঁপেতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে ৫৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ থাকে। একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের দৈনিক ৩০ মিলিগ্রাম ও বাচ্চাদের ৩৫ গ্রাম পেঁপে খেলেই ভিটামিন ‘এ’র সঙ্গে ভিটামিন ‘সি’র চাহিদাও পূরণ হয়। পাকা পেঁপে রান্না করে খেতে হয় না বলে এর ভিটামিন ‘সি’র সবটুকু আমাদের দেহে কাজে লাগে। কাঁচা পেঁপেতেও রয়েছে যথেষ্ট খাদ্যগুণ। এতে পাকা পেঁপের চেয়ে লৌহ, চর্বি, ভিটামিন ‘বি’সহ আঁশ বেশি থাকে। কাঁচা পেঁপেতে পেপসিন নামের জারক রস থাকে, যা আমিষ হজমের জন্য প্রয়োজন। কাঁচা পেঁপে থেকে হালুয়া, পায়েস, স্যুপ, সালাদ, চাটনি, আচার ইত্যাদি লোভনীয় সুস্বাদু, মুখরোচক ও পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা যায়। আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে পেঁপের ভূমিকা অনেক।

উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো, ০২ জানুয়ারী ২০০৭
লেখকঃ হসান মাহ্‌মুদ রিপন

ডায়েট নিয়ে সেভেন মিথস

ডায়েট নিয়ে নানা ধারণা রয়েছে। এসব ধারণার মধ্যে রয়েছে, একই খাবার একেকজন একেকভাবে আহার করেন। অনেকের কিছু কিছু খাবার সহ্য হয় না যেমনঃ আইবিএস-এর রোগীদের দুধও দুগ্ধজাত খাবার খেতে মানা, আলসারের, রোগীদের ঝাল কেতে মানা, ব্লড প্রেসারের রোগীদের লবণ খেতে মানা, ডায়াবেটিস-এর রোগীদের চিনি-মিষ্টি খেতে মানা ইত্যাদি। এখানে কিন্তু মিথস তুলে ধরা হলোঃ

  1. ডায়েট হচ্ছে পরিধেয় বস্ত্রের মত। একই পোশাক যেমন সকলে পরিধান করতে পারেন না, তেমনই সব খাবার সকলে খেতে পারেন না।
  2. ফুড পিরামিড অনুসরন করতে হবে এবং খাদ্যের পরিমাণ সঠিক মাত্রায় খাওয়া উচিৎ।
  3. মুখের স্বাস্থ্য শরীরের অন্যান্য অংশের রোগাক্রান্ত হবার সাথে সম্পৃক্ত নয়। কিন্তু মাড়ির রোগ করণারী ডিজিজের সৃষ্টি করতে পারে। ফ্লোসিং করলে হার্ট এ্যাটাক রোধ করা যায়।
  4. মানসিক চাপ থেকে শরীরে ওজন কমে। স্ট্রেস হরমোন তর্টিসোল শর্করা কমায়। এটার ফলে শরীরে ওজন বাড়ে এবং পেটে চর্বি জমে।
  5. রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ডায়েটের সম্পর্ক নেই। কিছু কিছু খাবার আছে যা রক্তের গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। যেমনঃ যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভি তাদের দুগ্ধজাত খাবারে সেনসিটিভ।
  6. সুষম খাদ্য শরীরের সব উপাদান যোগায়। সুষম খাদ্য আহার সত্বেও শরীরের সব উপাদান পাওয়া যায় না। তবুও সুষম খাদ্য আহারে একজন ব্যক্তি পরিপূরক খাবার সাপ্লিমেন্ট ছাড়াও সুস্থ থাকতে পারে।
  7. শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম অন্যের মত। একেকজনের শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়া একেক ধরনের। সঠিক বিপাক বা মেটাবালজিম-এর জন্য সঠিক খাবার প্রয়োজন।

সূত্রঃ বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে ডা. উলন মালাকার।

বড়ি রুই

উপকরণঃ কুমড়োবড়ি ৮-১০টি, রুই মাছ ৬ পিস, একটি পেঁয়াজ কাটা, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, জিরা বাটা আধা চা চামচ, মরিচ বাটা ১ চা চামচ, হলুদ বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল আধা কাপ।

প্রণালীঃ কড়াইয়ে ২ টেবিল চামচ তেল দিয়ে তার মধ্যে কুমড়োবড়ি একটু লাল করে ভাজতে হবে। বড়ি তুলে বাকি তেলে কাটা পেঁয়াজ দিয়ে একটু ভেজে লাল হলে একে একে সব মসলা দিয়ে খুব ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। এবার বড়ি ও মাছগুলো দিয়ে কষিয়ে ঝোল দিতে হবে। বড়ি সেদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে নিতে হবে। একটু বেশি ঝোল অবস্থায় নামাতে হয়, যাতে বড়িতে ঝোল টেনে নেয়।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ০৫, ২০০৮

কুমড়োবড়ি তৈরির নিয়ম

কুমড়োবড়ি তৈরির নিয়ম 

উপকরণঃ খোসাসহ কাঁচা মাষকলাইয়ের ডাল ১ কেজি, শুকনা সাদা চালকুমড়ো কুড়ানো আধা কেজি।

প্রণালীঃ ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে বেতের ঝুড়িতে ঘষে খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নিতে হবে; একদম সাদা হবে এবং কোনো খোসা থাকবে না। চালকুমড়োর বিচি ফেলে ঝিনুক বা কোরানি দিয়ে খুব ভালো করে কুরিয়ে নিতে হবে। ভালো করে ধুয়ে এমন করে পানি ঝরাতে হবে যেন পানি না থাকে। এবার বাঁশের চালনিতে করে একবেলা রোদে দিতে হবে। চালকুমড়োর কাজ আগের দিন করে রাখলে ভালো হয়। ডাল বাটার পর তার সঙ্গে চালকুমড়ো মিলিয়ে বাটতে হবে। সব বাটা হয়ে গেলে একটি থালায় অল্প অল্প করে নিয়ে হাতে পানি দিয়ে ফেটতে হবে। ফেটার সময় যখন হালকা মনে হবে তখন একটি বাটিতে পানি নিয়ে তাতে গোলা ছাড়তে হবে। যদি গোলা ভেসে থাকে তাহলে বুঝতে হবে বড়ি তৈরির উপযোগী হয়ে গেছে।

একটা বড় নেট অথবা মশারির কাপড়ের ওপর রোদে বসে বড়ি দিতে হবে। বড়ি দেওয়া হয়ে গেলে দু-তিন দিন শুকাতে হবে। কড়া রোদে শুকিয়ে গেলে নিজে নিজে বড়ি উঠে আসবে। সব বড়ি যখন উঠে আসবে, তারপর একটি বাঁশের ঝুড়িতে করে আরও চার-পাঁচ দিন রোদ দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে ভালো করে। শুকিয়ে নিলে বড়িতে সহজে পোকা ধরে না। এবার শুকনো বয়ামে ভরে সারা বছর খাওয়া যাবে। বড়ি রান্নার কয়েকটি রেসিপি দেওয়া হলো। বড়ি শীতকাল ছাড়া ভালো হয় না। তাই শীতকাল হচ্ছে বড়ি বানানোর উপযুক্ত সময়।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ০৫, ২০০৮

বড়ির ঘণ্ট

উপকরণঃ বেগুন ১ কাপ (টুকরা), কাঁচা পেঁপে ১ কাপ (টুকরা), মিষ্টিকুমড়ো ১ কাপ (টুকরা), কুমড়োবড়ি ১২-১৪টি, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, গোটা জিরা ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৪-৫টি, হলুদ সামান্য, লবণ স্বাদমতো, তেল আধা কাপ।

প্রণালীঃ প্রথমে বেগুন, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়ো (বেগুনের সঙ্গে যেকোনো একটি সবজি দিয়েও করা যায়) হলুদ, লবণ ও ২ কাপ পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। কাঁচামরিচ ফালি সেদ্ধর সময় অথবা বাগারে দেওয়া যায়। পানি শুকিয়ে গেলে নামিয়ে অন্য একটি কড়াইতে তেল দিয়ে (কুমড়োবড়িগুলো ভেঙে নিতে হবে) ভাঙা কুমড়োবড়ি দিয়ে লাল হয়ে এলে গোটা জিরা দিয়ে একটু পরে পেঁয়াজ দিয়ে আর একটু ভাজতে হবে। এবার সেদ্ধ করা সবজিগুলো দিয়ে খুব ভালো করে নাড়তে হবে। একদম মাখা মাখা হলে নামিয়ে নিতে হবে।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ০৫, ২০০৮

বড়ি ভর্তা

উপকরণঃ কুমড়োবড়ি ১০-১২টা, গরম ভাত ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, শুকনা মরিচ ৩-৪টি, লবণ স্বাদমতো, সরিষার তেল ১ টেবিল চামচ।

প্রণালীঃ প্রথমে বড়িগুলো আধা কাপ তেলে বাদামি করে ভেজে নিতে হবে। তারপর গুঁড়ো করে নিতে হবে পাটায় (১ কাপ)। এবার ১ কাপ গরম ভাত ভালো করে চটকিয়ে বড়ির সঙ্গে মেলাতে হবে। শুকনা মরিচ তেলে ভালো করে ভেজে নিতে হবে। শুকনা মরিচ ও পেঁয়াজ একসঙ্গে ভালো করে মেখে লবণ ও তেল দিয়ে বড়ি মাখানোর সঙ্গে মিলিয়ে ভর্তা তৈরি করতে হবে। এই ভর্তা গরম ভাত দিয়ে খেতে খুব মজা।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ০৫, ২০০৮

ইলিশ মাছে বড়ি বেগুন

উপকরণঃ ইলিশ মাছ ৮ টুকরা, বেগুন (মাঝারি) ১টি, বড়ি ১২টি, ভাজা জিরার গুঁড়ো ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা আধা টেবিল চামচ, শুকনা মরিচ বাটা ১ চা চামচ, হলুদ বাটা ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল প্রয়োজনমতো।

প্রণালীঃ প্রথমে বড়ি তেল দিয়ে (২ চামচ) ভেজে উঠিয়ে নিতে হবে। এবার ২ চামচ তেল দিয়ে বেগুনে (মাছের তরকারির মতো কাটা) লবণ, হলুদ সামান্য দিয়ে ভাজতে হবে। কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে একে একে সব মসলা দিয়ে কষাতে হবে। এবার মাছ, বড়ি ও বেগুন দিয়ে কষিয়ে ঝোল দিতে হবে। সব তরকারি সেদ্ধ হয়ে গেলে ওপরে জিরার গুঁড়ো দিয়ে মাখা মাখা ঝোল অবস্থায় নামাতে হবে।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ০৫, ২০০৮

পুষ্টিতে তুষ্টি: গাজর, টমেটো ও ক্ষীরা

সালাদ তৈরির জন্য আমরা যে কয়টি সবজি ব্যবহার করি, তার মধ্যে গাজর, টমেটো আর ক্ষীরার কথা না বললেই নয়। এই তিনটি সবজিই পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। রান্না করে খাওয়ার চেয়ে কাঁচা খাওয়া বরং বেশি ভালো। কারণ এতে পুষ্টির অপচয় কমে।

প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে রয়েছে আঁশ ১·২ গ্রাম, প্রোটিন ১·৫ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫৭ কিলোক্যালোরি, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, আয়রন ২·২ মিলিগ্রাম। গাজর ক্যারোটিনের অনেক ভালো উৎস। অর্থাৎ ১০৫২০ মাইক্রোগ্রাম। ভিটামিন ‘বি১’ রয়েছে ০·০৪ মিলিগ্রাম, ‘বি২’ রয়েছে ০·০৫ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে ১৫ মিলিগ্রাম।

প্রতি ১০০ গ্রাম টমেটোতে রয়েছে প্রোটিন ১·৯ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ২৩ কিলোক্যালোরি, ক্যালসিয়াম ২০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১·৮ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১৯২ মাইক্রোগ্রাম। ভিটামিন ‘বি১’ রয়েছে ০·১১ মিলিগ্রাম ও ‘বি২’ রয়েছে ০·০৩ মিলিগ্রাম। আর ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে ৩১ মিলিগ্রাম।

প্রতি ১০০ গ্রাম ক্ষীরায় প্রোটিন রয়েছে ০·৯ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ১১ কিলোক্যালোরি, ক্যালসিয়াম ৫৮ মিলিগ্রাম। ভিটামিন ও আয়রন ক্ষীরায় নেই। এর প্রায় ৮০ ভাগই জলীয় অংশ।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ১৬, ২০০৮

তিলের পুলি

উপকরণঃ দুধ দেড় কাপ, গুড় ১ কাপ, মুগ ডাল আধাকাপ, আটা ২ কাপ, নারকেল কোরানো আধাকাপ, সাদা তিল ১ টেবিল চামচ টেলে নিতে হবে।

প্রণালীঃ দুধে মুগ ডাল সেদ্ধ করে নিতে হবে। নারকেলসহ ডাল শুকনো করে বাটতে হবে এবং তিল ও গুড় মিলিয়ে নিতে হবে। জ্বাল করে পুর তৈরি করতে হবে। আটা ও লবণ পানিসহ মেখে নিতে হবে। মসৃণ খামির হবে। ছোট ছোট রুটি বেলে ভেতরে ডালের পুর ভরে পুলি তৈরি করতে হবে। সব পুলি এক রকম করে বানিয়ে ডুবো তেলে সোনালি-বাদামি করে ভেজে তুলতে হবে।

খামির বানানোর সময় ১ টেবিল চামচ ভাজা তিল আটার সঙ্গে দেওয়া যাবে। খেতে মজা হবে।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০০৮

নতুন গুড়ের দুধসেমাই

উপকরণঃ ঘিয়ে ভাজা সেমাই ১ কাপ, দুধ ২ কাপ, খেজুরের গুড় গ্রেট করা ১ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক আধাকাপ ও পানি আধাকাপ।

প্রণালীঃ দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে। দেড় লিটার হয়ে এলে ঘিয়ে ভাজা সেমাই দিয়ে নেড়ে নেড়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। গুড়, পানি ও কনডেন্সড মিল্ক একসঙ্গে জ্বাল করে রাখতে হবে। সেমাই সেদ্ধ হলে গুড়ের মিশ্রণ দিয়ে নেড়ে নেড়ে ঘন হয়ে উঠলে চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। কাঠের চামচ দিয়ে নেড়ে নেড়ে ঠান্ডা করে সার্ভিং ডিশে ঢেলে পরিবেশন করতে হবে। গরম বা ঠান্ডা।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০০৮

ডিম ছাড়া মাওয়া ও গুড়ের মাফিন

উপকরণঃ ময়দা দেড় কাপ, কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, বেকিং সোডা ১ চা চামচ, এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ, মাখন ৩ টেবিল চামচ, গুড় গ্রেট করা ১ কাপ, মাওয়া আধাকাপ (কেনা মাওয়া), গুঁড়া দুধ ৫ টেবিল চামচ, লিকুইড ঘন দুধ ১ কাপ।

প্রণালীঃ সব উপকরণ একসঙ্গে বিটার দিয়ে বিট করে নিতে হবে। গ্রিজ করা মাফিন প্যানে করে গোলা দিয়ে প্রিহিটেড ওভেনে বেক করতে হবে মাঝারি আঁচে ৩০-৩৫ মিনিট।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০০৮

মিষ্টি রুটি

উপকরণঃ ময়দা আধাকাপ, চালের গুঁড়া ১ কাপ, লবণ আধা চা চামচ। এসব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। গ্রেট করা নতুন গুড় ১ কাপ, পানি ২ কাপ।

প্রণালীঃ পানি ও গুড় একসঙ্গে জ্বাল করে নিতে হবে। গুড় গুলে বলক এলে ময়দার মিশ্রণ দিয়ে নেড়ে নেড়ে সেদ্ধ খামির বানাতে হবে। গরম খামির গামলায় ঢেলে নিয়ে হাতে পানি লাগিয়ে লাগিয়ে মসৃণ ডো বানাতে হবে। ডো বেলে পাতলা রুটি বানিয়ে শুকনো তাওয়ায় সেঁকে গরম গরম পরিবেশন; চা বা কফির সঙ্গে। খুব স্বাস্থ্যকর। বাচ্চাদের সাদা তেল বা ঘিয়ে ভেজে দেওয়া যাবে। পছন্দ করে খাবে ওরা।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০০৮

গুড়ের কুকিজ

উপকরণঃ গুড় গ্রেট (ঝুরি করা) করা পৌনে ১ কাপ বা ১ কাপ, পিনাট বাটার আধাকাপ, লেমন রাইন্ড আধা চা চামচ, মধু ১ টেবিল চামচ, দুধ আধাকাপ, শুকনো নারিকেল আধা কাপ, ভাজা চিনা বাদাম আধাভাঙা আধাকাপ, ময়দা ১ কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, দুধ ডো বানাতে প্রয়োজনমতো।

প্রণালীঃ বাটিতে সব উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে দুধ দিয়ে (অল্প অল্প) খামির বানাতে হবে। হাতে তেল লাগিয়ে ছোট ছোট বল বানিয়ে কাঁটা চামচ দিয়ে চেপে দিতে হবে। এভাবে খামির দিয়ে সব বিস্কুট বানিয়ে গ্রিজ করা বেকিং ট্রেতে প্রিহিটেড ওভেনে বেক করতে হবে ২০ মিনিট। কুকিজ ঠান্ডা হলে বয়ামে স্টোর করতে হবে।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০০৮

ডালের স্যুপ

ছয়জনের জন্য। প্রেসার কুকারে রান্নার সময় পাঁচ মিনিট।

উপকরণঃ মুসুর ডাল ১ কাপ ভালো করে ধোয়া, মাঝারি পেঁয়াজ ১টা চপ করা, গাজর বড় একটা চপ করা, হাড় ছাড়া চিকেন স্লাইচ ১০০ গ্রাম, রসুন ২ কোয়া চপ করা, তেজপাতা ১টা, লবণ ৩ চা চামচ বা স্বাদমতো, চিনি ১ চা চামচ, ড্রাই থাইমপাতা সিকি চা চামচ, শুকনা মরিচ বা লাল কাঁচামরিচ ১টা (বিচি ছাড়া), পানি সাড়ে ৫ কাপ।

প্রণালীঃ প্রেসার কুকারে সব উপকরণ দিয়ে কুকার বন্ধ করে বেশি আঁচে ২টা সিটি তুলে আঁচ কম করে ৫ মিনিট কুক করতে হবে। চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে, কুকারের মুখ খুলে তেজপাতা তুলে নিতে হবে। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ব্লেন্ড করা উপকরণ গরম করে গরম গরম পরিবেশন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ১৫, ২০০৮

চিংড়ি স্যুপ

আটজনের জন্য। প্রেসার কুকারে রান্নার সময় তিন মিনিট।

উপকরণঃ রান্না করা ভাত দেড় কাপ, পানি ২ কাপ, চিংড়ি ১ কেজি মাঝারি (খোসা ও রগ ফেলে পরিষ্কার করা), বড় পেঁয়াজ কুচি ৩টা, সেলারি কুচি সিকি কাপ, ক্যাপসিকাম মাঝারি ২টা কুচি, তেজপাতা ৩টা, গোলমরিচ গুঁড়া সিকি চা চামচ, কাবাব চিনি গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ ১ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, পার্সলে কুচি ২ টেবিল চামচ।

প্রণালীঃ কুকারে ভাত, দুধ ও পার্সলে ছাড়া সব উপকরণ দিয়ে বেশি আঁচে প্রেসার কুক করে ২ সিটি তুলে নিতে হবে। পরে অল্প আঁচে ৩ মিনিট। চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। কুকারের ঢাকনা খুলে দুধ ও ভাতটা মিলিয়ে কিছুক্ষণ জাল করতে হবে মাঝারি আঁচে। পার্সলে দিয়ে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ১৫, ২০০৮